শিশুদের হাতে শহর

0
1603

একটি শুভ রোববারের প্রতিক্ষায়
…………………………………………..

দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ বলতে আমি শাহবাগ আন্দোলনের গণজাগরণকেই বুঝি, যার সৈনিক ছিল আমার মত মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রজন্ম।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি দেশ গড়ার প্রথম আন্দোলন বলতে জুলাই জাগরণের কিশোর বিদ্রোহকেই বুঝি। এ আন্দোলনের সৈনিকরা মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় প্রজন্ম, যারা আমাদেরই সন্তান। এত জরুরী, কার্যকরী, স্বতস্ফূর্ত মুভমেন্ট শুধু দেশেই নয় পৃথিবীতেই হয়তো বিরল। এ আন্দোলনের ইউনিক প্যাটার্ন এবং যাবতীয় অর্জন নিয়ে মহাকাব্য লেখা সম্ভব।

সবই বুঝলাম, কিন্তু শেষ কোথায়?
সকাল ১০টায় এ্যাপোলোতে আমার ভাবির গলব্লাডার অপরেশন, ইচ্ছা ছিল অপরেশনের আগেই যাব। অফিসের একটা গাড়ি নিয়া মতিঝিল থেইকা রওয়ানা হইসি ৮ঃ৩০ এ পৌঁছাইছি ১ঃ৩০ এ; অপরেশন শেষ করে পোস্ট অপেরেটিভ থেকে রোগী তখন কেবিনে। মতিঝিল-বসুন্ধরার এই জার্নি পুলসুরাতের চাইয়া কম নয়। হাসপাতালে নিকট আত্মীয় সবাই আছে। আমার মামাতো ভাই সাজিদ শাহীন কলেজ থেকে এবার ইন্টার পাশ করেছে, মামীরে কইলাম সাজিদ কই? মামী কইলো তোমার ভাই রাষ্ট্র মেরামতে ব্যস্ত; প্রিন্সিপ্যাল সব এক্স স্টুডেন্টদের ফোন দিয়ে ডেকে নিসে, আমাদের কথা তো শোনে না।

যা অর্জন হয়েছে ক্ষতি কিন্তু তার চেয়ে কম হয় নি। সরকার অধিকাংশ দাবী মেনে নিয়েছে তারপরও সাপ্তাহিক দুটি ছুটির দিনে কোমলমতিদের যে এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টভিটিস দেখলাম তাতে নাহিদ টাকলুরেই একমাত্র সফল মন্ত্রী বইলা মনে হইতাসে।

আজকের শিশু-কিশোররা রাজপথে মন্ত্রী, নেতা, বিচারপতি, আর্মি, পুলিশ, সাংবাদিক …সবাইরে আঙুল দিয়া এ্যাডেভেঞ্চারের যে মজা পাইসে তার কাছে বাপ-মায়ের শাসন এখন সামান্য শিশুতোষ ব্যাপার। তারা এখন জাতি মেরামতের জরুরী কাজে ব্যস্ত, এরপরেই তারা বাপ মায়রে মেরামতের কাজে হাত দিবে কইলো।

আগামিকাল রোববার। জাতির জীবনে এমন একটি সাপ্তাহিক সূচনা দিবসকে এতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে কখনও মনে করি নাই। আগামীকালের মধ্যে কোমলমতিরা যদি মায়ের কোলে ফিরে না যায় তবে পরিস্থিতার ভায়াবহতা কি হবে তা ভাবতে পারছি না। দিনশেষে দায়-দায়িত্ব নিতে হবে কিন্তু বাপ-মা কেই।

শুধু কয়েকটি সাংকেতিক ভাবনা শেয়ার করিঃ

১। আন্দোলনটা শুরু করেছে সাধারণ কোন স্কুল ছাত্ররা নয় সব কলেজের ছাত্র। পরে যোগ দিয়েছে স্কুলের শিশুরা। প্রতিষ্ঠানটিতে কারা পড়ে, কে চালায়, কীভাবে চলে-খবর নিন। আমার একমাত্র ভাতিজা রাইফেলস স্কুলে পড়ে। ওরা কিন্তু সাহসই পেল না ঝিগাতলার মোড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভাবতে। নয়া প্রধান সেনাপতি কিন্তু ভারত সফরে ব্যস্ত।

২। খোদা না করুক শফিসাব যদি এ আগুনে একটু ফু দেয় তখন কতটুকু পুড়বে বলে মনে হয়?

৩। কাল থেকে শুরু হবে সাবোটাইজ শো। ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া দিতে প্রস্তুত অনেকেই। গত কয়দিনে সড়ক দূর্ঘটনা কইলো থাইমা নেই, মনে করেন একজন মাদ্রাসার ছাত্র মারা গেল, এইবার ভাবেন।!

কামলা কারে কয় জানেন? আমরা যাদের প্রফেশনাল বা কন্ট্রাক্ট কিলার কই গডফাদাররা তাগো কামলা কইয়া ডাকে। তাগো বয়স কত ধারণা আছে? ভাবুন

আগস্ট মাসে আ’লীগ রাজপথে নাই। প্রিয় অভিভাবকরা আপনারা যদি এইটাতে ডুগডুগি বাজান তবে ভুল করছেন। সাবোটাইজের দায় শুধু শেখ হাসিনাই বইবে এইটা ভাইবেন না।

শুরু হয়ে গ্যাছে সাবোটাইজ শো। মাত্রই দেখলাম জিগাতলায় সাঈদিরে দেখা গ্যাছে। হাজার প্রকার গুজবে ভাসছে ঢাকা। ৪টি লাশ, একজোড়া চোখ, কোমলমতিদের একের পর এক ভিডিও ভাইরাল….সত্য মিথ্যা এখনও জানি না শুধু এটুকুই জানি আহত বা নিহত শিশুটি আমারই সন্তান বা সহযোদ্ধা।

আমি আশাবাদি মানুষ। কালকের মধ্যে অভিভাবকদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। প্রিয় নেত্রির কাছে নিবেদন দলকে দাঁতাল শুয়োরমুক্ত করুন। একটি শুভ রোববারের প্রত্যাশায় রইলাম।