শাহ আলমের সংগ্রাম

0
1592

প্রায় সিকি শতাব্দী পর দেখা হল ছেলেবেলার বন্ধু শাহ আলমের সাথে। রাব্বিকে সাথে নিয়ে আমার অফিসে এসেছিল গতকাল। চিনতে কষ্ট হয়নি মোটেই। ওর চাপ দাড়ি দিয়ে আড়াল করা মুখখানায় বিগত ২৫ বছরে খুব বেশী ভৌগলিক পরিবর্তন আসেনি। কিন্তু পরিবর্তন যেটা এসেছে সেটি আমাকে অপরাধী করে দেয়!

‘বন্ধু কতদিন দেখা হয়নি’ বলে উচ্ছ্বাসে আমি ওকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। কিন্তু উষ্ণতার পরিবর্তে টের পেলাম অব্যক্ত এক আড়ষ্টতা। বন্ধুত্বের অধিকার নয় দ্বিধা, সংকোচ, অসহায়ত্ব আর দোদ্যুল্লমানতার স্পষ্ট ছাপ ছিল মুখশ্রীতে। একজন কলেজ শিকের এই আড়ষ্টতায় আমি কেঁপে উঠেছিলাম।

স্টাবলিস্টমেন্টের ইদুর দৌড়ে অংশ নিয়ে হারিয়েছি অনেক কিছু, আর অর্জন শুধুই নাগরিক শঠতা। চৌকষ হওয়ার প্রানন্তর চেষ্টায় মানুষ হয়ে ওঠা হয়নি আজও। হাজারো নাগরিক বন্ধু, শুভাকাংখীদের ভীড়ে শাহ আলম নিজেকে বড়ই বেমানান মনে করে। কৃত্রিম এই যাপিত জীবনে অনেকদিন পর নিজেকে শুধু অপরাধী নয় খুব নির্লজ্জও মনে হল।

যাইহোক জিজ্ঞাসা করলাম ‘বন্ধু তুমি কেমন আছ? সাদিয়া কেমন আছে?’ সাদিয়া ওর একমাত্র সন্তান। মাত্র ৬ বছর বয়স। ব্লাড ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধেরত। বলল- কেমো চলছে। আমাদের ডাক্তার বন্ধু চন্দনের তত্ত্বাবধানে ১৫ টা কেমো দেয়া শেষ। দ্বিতীয় কিস্তির কেমো শুরু করতে হবে শীঘ্রই। ইতোমধ্যেই ৭ লাখ টাকা ব্যয় শেষ। স্থানীয় বন্ধু-শুভাকাক্সীদের সহায়তা আর বেসরকারি কিছু শিকদের অনুদানে এতদিন চলছিল। এখন আর দিন চলতে চায় না। বড় আশা নিয়ে সাদিয়াকে নিয়ে ঢাকায় এসেছে, পুরোনো বন্ধুদের সহায়তায় যদি দ্বিতীয় কিস্তির কেমো শুরু করা যায়!

ফিলিস্তিনী একটি শিশুর কথা মনে পড়ে গেল। শিশুর জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে নিশ্চিত ও নিরাপদ স্থান পিতার বুক; সেই পিতার বুকেই গুলিবিদ্ধ হয়ে শিশুটি মারা গেল। বিশ্ব মানবতা সেদিন কেঁদেছিল শিশুটির জন্য। আর আমি কেঁদেছিলাম শিশুটির জন্য নয় অভাগা সেই পিতার অসহায়ত্বেও কথা ভেবে! বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী জিনিস হল পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ। এ ভার যেন কারো বইতে না হয়। শাহ আলমকেও এ ভার আমরা বইতে দিব না। সন্তানকে বাঁচানোর জন্য শাহ আলমের যে লড়াই সে লড়াইয়ে আসুন আমরা সবাই তার সাথী হই! শাহ আলমকে আমরা হারতে দিব না। শাহ আলমের হয়ে আমরাও লড়বো।

Send your Contribution A/C Name: Md. Shah Alom, A/C No. 5201202300457001, Brac Bank, Patuakhali Br.