পুকুর ভরাট ও আমাদের প্রতিবাদ

0
977

তারিখ: নভেম্বর, ২০১২

গ্রীন পটুয়াখালী
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
পুকুর ভরাট ও আমাদের প্রতিবাদ

ভরাট হয়ে যাচ্ছে ৫৩ বছরের পুরনো, ডিসি কোর্টের পিছনে অবস্থিত শহরের অনিন্দ্য সুন্দর ৪ একরের পুকুরটি। চলছে পুকুর পারে বৃক্ষ নিধন। ডিসি, পিডব্লিউডি, বিআইডব্লুটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ভূমি ও রাজস্ব বিভাগ, রোডস এন্ড হাইওয়েসসহ সংশ্লিষ্ট প্রায় সকল কর্মকর্তাই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে দায়সারাভাবে! জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য রহস্যাবৃত্ত ও সাংঘর্ষিক। এমতাবস্থায় আমাদের বক্তব্য:নগর উন্নয়নের সূচকে পুরনো যে কোন জেলা শহরের তুলনায় আমাদের অবস্থান প্রান্তিকে। তবুও ভালবাসি পটুয়াখালী। প্রাণের নগরী পটুয়াখালী আমাদের গর্বের ধন। এটি উগ্র আঞ্চলিকতা নয় ; বিষবাষ্পের নগরায়নের যুগে প্রকৃতি এটিকে অনন্য করেছে অন্যদের তুলনায়। এর জল, মাটি, বায়ু-পরিবেশ এখনও অনেকবেশী প্রাকৃতিক, পবিত্র ও দুষণমুক্ত। প্রশ্ন হচ্ছে এই পবিত্রতা অক্ষুন্ন রাখার দায়িত্ব কার? রাজনৈতিক নীতি নির্ধারক আর প্রশাসন এর প্রধানতম রক্ষক হলেও দায়থেকে মুক্ত আমরা কেউই নই। সব যুগে, সর্বত্রই পুকুর কিংবা দীঘি নগর সৌন্দর্য্যরে চিরায়ত বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বীকৃত। মাত্র ১০ বছর আগেও প্রতিটি পাড়া মহল্লায় এমনকি প্রতিটি গলিতে একাধিক গৃহস্থের পুকুর ছিল। ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয়তায় প্রায় সকল পুকুরই এখন ভরাট হয়ে গেছে। ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে রাষ্ট্র, সমাজ, অন্যকোন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান সরাসরি নাক গলাতে পারেনা। সরকারী কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরগুলো বৃহদায়তনের। এগুলোতো পাবলিক প্রপার্টি। এগুলোতো আমরা রক্ষা করতে পারি।

জলবায়ু পরিবর্তনে সর্ব্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ দরিদ্রসীমার প্রান্তিকে অবস্থিত একটি উন্নয়নশীল দেশ যেদেশে উন্নয়নের বিস্কুট ঝুলিয়ে কুকুরের ন্যায় মানুষকে নাঁচানো যায়। পাহাড়-পর্বত, পুকুর-জলাধার, বৃক্ষ-বন, আবাদি-অনাবাদি জমি সবকিছুই ব্যক্তি দখল করে গায়ের জোড়ে আর রাষ্ট্র দখল করে অদূরদর্শী উন্নয়নের তকমায় স্বার্থন্বেষী কিছু মহলের প্ররোচনায়। আমরা যখন পটুয়াখালীর সর্ববৃহৎ বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মানের দাবীতে সোচ্চার হয়েছি তখন একটি মহল থেকে বলা হল এখানেতো ক্যাডেট কলেজ করা হবে! এখন পুকুর ভরাটের কারনে বলা হচ্ছে এখানে মেডিকেল কলেজ করা হবে! অথচ এগুলোর প্রতিটির জন্য শতাধিক বিঘা জমির প্রয়োজন। মাত্র বিশ বর্গকিলোমিটারের এই শহরের হৃদপিন্ডেই তৈরী করতে হবে ক্যাডেট কলেজ, মেডিকেল কলেজ সবই! কেন?

উন্নয়ন প্রত্যাশী সাধারণ মনুষ নগদেই সন্তুষ্ট থাকে বলে খুব সহজেই তাদের বিভ্রান্ত করা যায়। কেউ যদি নদীমাতৃক বাংলাদেশ দেখতে চায় তাহলে তাকে পটুয়াখালী আসতে হবে যেমন আসতে হবে জলবায়ু পরিবর্তনের সর্ব্বোচ্চ ঝুঁকি ও তা মোকাবেলার সহজাত কৌশল দেখতে। শহরবাসী এখনও জানেনা জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম ফল হিসেবে তিন দিকে নদী আবৃত এ শহরকে সামুদ্রিক লবনাক্ততায় গ্রাস করা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। আমরা যদি এখনও সচেতন না হই, শহরের সব পুকুরগুলো যদি চুরি হয়ে যায় তবে বাঁচার তাগিদে পরবর্তি প্রজন্মকে কিন্তু আবার পুকুরের কাছেই ফিরে আসতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কয়েক মাস আগে খেপুপাড়ার জনসভায় পটুয়াখালীতে একটি মেডিকেল কলেজ নির্মনের ঘোষনা দেন। এখনো একনেকের বৈঠকে অনুমোদিত হয়নি, এমনকি মন্ত্রীসভার বৈঠকেও প্রস্তাবটি উপস্থাপন হয়েছে বলে শুনিনি কিন্তু আগাম ড্রেজিংয়ের ব্যবসাটি শুরু হয়ে গেল অলৌকিকভাবেই! এর আগেও আমরা দেখলাম স্থানীয় মাননীয় মন্ত্রী রাসেল শিশুপার্কের ভিক্তিপ্রস্তর নির্মানের সাথে সাথেই নকশা পাশের আগেই শুরু হয়ে গেল ড্রেজিংয়ের ব্যবসা। তিনটি পাবলিক পুকুরসহ চারটি জলাধার ভরাট করা হল। জলাধারগুলো শুধু বালিপূর্ণ হয়েই পড়ে রইল মাসের পর মাস শিশুপার্কের আর কোন উন্নয়ন কিন্তু শুরু হয়নি অদ্যোবধি। কেন হয়নি? সম্ভবত নকশায় ওয়াটার রাইড অন্তর্ভূক্ত করতে ব্যস্ত তারা! আবার জলাধার তৈরী কর! ডবল ব্যবসা! অথচ পুকুরগুলো রক্ষা করেই শিশুপার্কের নকশা করা যেত! এবারও যাত্রাটার ধরন একই। আশংকার কথা বালু তোলা হচ্ছে ব্রীজের প্রায় পাদদেশ থেকেই। এটি ব্রীজের জন্য মারাত্মক অশনিসংকেত কিন্তু বিআইডব্লুটিএ কিছুই নাকি জানে না । পটুয়াখালী বাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী এই পটুয়াখালী ব্রীজ যেটি বাস্তবায়নে বর্তমান মন্ত্রী মহোদয়ের ভূমিকাই প্রধান আমরা সকলেই তা জানি এবং মানি। আমরা বিশ্বাস করতে চাই তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।বাংলাদেশের প্রায় সকল পাবলিক মেডিকেল কলেজে একাধিক পুকুর রয়েছে। এই স্থানে যদি মেডিকেল কলেজ করতেই হয় তবে পুকুরটি রক্ষা করেই সেটি নির্মান করা হোক। কিংবা ৪৫০ বর্গকিলোর সদর উপজেলার যে কোন জায়গায়ই নির্মিত হতে পারে নতুন হাসপাতালসহ একটি মেডিকেল কলেজ। অবিলম্বে উপর্যুক্ত পুকুরটি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া না হলে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো। এর পাশাপাশি শহরের অবশিষ্ট পুকুরগুলো রক্ষার জন্য প্রশাসনের জরুরী প্রজ্ঞাপন জারির জোর দাবী জানাচ্ছি।

বার্তা প্রেরক
গ্রীন পটুয়াখালীর পক্ষে
সুমন জাহিদ