দেশভাগঃ পটুয়াখালীর বুকে নিঃশব্দ রক্তক্ষরণ (দ্বিতীয় পর্ব)

0
1105

প্রথম পর্ব পড়তে এই লিংকে ক্লিক করুন

পটুয়াখালীর ইতিহাস কিংবা নগর জীবনের সূচনা সম্পর্কিত বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পাওয়া খুবই দুস্কর। যা পাওয়া যায় তা বিভ্রান্তমূলক। বৃহত্তর বরিশালের বিভিন্ন জেলা সম্পর্কিত যে ইতিহাসগুলো বাজারে আছে প্রায় সব জায়গায়ই মুসলিম সমাজ সম্পর্কিত তথ্যের অপ্রতুলতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার উপেক্ষিত কিংবা বিকৃত। যেমন চন্দ্রদ্বীপের ইতিহাস হলো রাজা দনুজ মর্দন দে আর তার উত্তরসুরিদের ইতিহাস; মুসলিম ইতিহাস চোখেই পড়ে না। অথচ পটুয়াখালী অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় সুলতানী আমল ও মোগল আমলের বেশ কয়েকটি মসজিদ আবিস্কৃত হয়েছে। যেমন মসজিদ বাড়িয়া শাহী জামে মসজিদ (১৪৬৫), মির্জাগঞ্জ। আবার অনেকে বলার চেষ্টা করেছেন পটুয়াখালী মহাকুমা হওয়ার পূর্বে বর্তমান পৌর এলাকা ঘন জঙ্গল আচ্ছাদিত ছিল। পর্তুগীজ জলদস্যুরা চলে গেলে এখানে আস্তানা গড়ে দুর্ধর্ষ কাপালিকরা যাদের মূল পেশা ছিল ডাকাতি। এ কারনেই সুধীর ময়রার পাশের কালি মন্দিরটির (সেন্টার পাড়া) নাম ছিল ডাকাতিয়া কালি মন্দির। ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে মা কলির ভোগে বলি দিত কাপালিকরা। এ তথ্যও পুরোটা গ্রহনযোগ্য নয়।

যেহেতু আমাদের বিষয় পটুয়াখালীতে দেশভাগের কারণে দেশত্যাগীদের কথা তাই সে সম্পর্কিত আলাপ এখানে আর না করি। পটুয়াখালী মহাকুমায় উন্নিত হওয়ার পর থেকে যতটুকু তথ্য সংগৃহীত হয়েছে তার আলোকেই আমরা শুরু করি।

বাকেরগঞ্জ জেলার দেওয়ানী শাসন প্রসারের জন্য ১৮১৭ সালে স্থাপন করা হয় পৃথক ৪টি মুন্সেফী চৌকি। এগুলো হল বাউফল (বুজুর্গ উমেদপুর), কাউখালী, মেহেন্দিগঞ্জ ও কোটের হাট চৌকি। ১৮৬০ সালে বাউফলের চকি চলে আসে লাউকাঠিতে। ১৮৭১ সালে বর্তমান বিএম দত্তের নেতৃত্বে মহকুমা সদর অফিস স্থাপিত হয় কালীবাড়ি (সেন্টার পাড়া) পুকুরের পূর্ব পাড়ে। প্রথমে বাঁশ ও ছনের তৈরি ঘড়ে কোর্ট বসে বলে স্থানীয় লোকজন একে বলত বাউশশা কোর্ট। বর্তমান লঞ্চ ঘাটের মাছ পট্টির দক্ষিণে যেটা ফুড অফিস ছিল, এখন দৈনিক রূপান্তরের অফিস, এটিই মহাকুমা অফিস ছিল। মহাকুমা হওয়ার সাথে সাথে বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশেষত কোটালী পাড়া, বাকেরগঞ্জ, বিক্রমপুর, মোমেনশাহী থেকে প্রচুর উকিল, মোক্তার, ব্যবসায়ী, শিক্ষকসহ শিক্ষিত হিন্দু ও কিছু মুসলিম পরিবার পটুয়াখালীতে আসে।

বৃটিশ পিরিয়ডে পটুয়াখালীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন ৬ টি দালান ছিল। ১. কালু ব্যানার্জির বাঘা বাড়ি (বর্তমান ডাঃ ফজলুর রহমানের বাসা)। ২. স্থানীয় জমিদার রাজেস্বর রায়ের হাউলি (একোয়েষ্টেড বিল্ডিং) ৩. রাজেস্বর রায়ের নায়েবের বাসগৃহ-অলকা ভবন (এএসপি সার্কেলের অফিস) ৪. মিঠা পুকুর পাড়ের রামধন বাবুর বাড়ি বর্তমানে মরিয়ম ভবন ৫. কাঠপট্টির অর্জুন সাহার বাড়ি ৬. শহীদ বিপ্লবী হিরালাল দাশগুপ্তের বাবা উমেশ দাশগুপ্তের বাড়ি (পুরাতন সোনালী ব্যাংক)। ৬টি দালানের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারগুলোর একটিও এখন আর পটুয়াখালীতে নেই। সবাই চলে গেছেন। তাদের সম্পর্কে পরবর্তিতে কিছু তথ্য দেয়ার চেষ্টা করবো।

পটুয়াখালীর নাগরিক সমাজের গোড়াপত্তনে সেন পরিবারের ভূমিকা খুবই গৌরবদীপ্ত। কালু সেন, নবীন সেন ও পুতুল সেন। এই তিন সেন সম্ভবত নিকটাত্মীয় ও জ্ঞাতি। এই তিন সেনের বাড়িই তৎকালীন শহরের কেন্দ্রবিন্দুর অনেকখানি জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এরা সম্ভবত গোপাল গঞ্জের কোটালী পাড়া থেকে এসেছে। কেননা সতীন সেন জন্মেছেন কোটালী পাড়ার বাগান উত্তর পাড়া গ্রামে তার ঠাকুর্দা রাম সেবক সেনের বাড়িতে ১৮৯৪ সালের ১৫ এপ্রিল। আকেটি তথ্য খুব মূল্যবান, পদ্মার দক্ষিণে এই কোটালী পাড়ায় সবচেয়ে বেশী ও সবচেয়ে প্রাচীন প্রত্নতত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। অনেক ভূ-বিজ্ঞানীদের দাবী খ্রীষ্টপূর্ব সময়ে বঙ্গোপ সাগরের সৈকত ছিল কোটালী পাড়ায়। বৃহত্তর যশোর, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের ভূমি গঠন হয়েছে খ্রীস্টের জন্মের পর। ১ম শতাব্দীতে ভাটার সময় এই ভূ-ভাগ জেগে উঠত। দ্বিতীয় শতাব্দীতে এখানে বন জঙ্গল তৈরী হয় ও পরবর্তিতে মানুষ বসতি স্থাপন শুরু করে।

পুরোধা ব্যক্তিদের একজন ছিলেন কালু সেন। তিনি নামকরা মোক্তার ছিলেন। ফৌজদারী পুলের কানাইর পানের দোকান থেকে দক্ষিণে নবাবপাড়া খালপাড় অবধি ছিল তাদের বসতবাড়ি। তিনি ছিলেন হিন্দু জনগোষ্ঠির অভিভাবকের ন্যায়। পটুয়াখালীতে প্রথম দূর্গাপুজা শুরু হয় কালু সেনদের বাড়িতে। প্রাচীন সংগঠন পটুয়াখালী হিন্দু সমাজের প্রতিষ্ঠাতা তিনি।

এখানে উল্লেখ্য বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা। দূর্গা পূজা সার্বজনীন কিন্তু সর্বজনীন নয়। সার্বজনীন অর্থ সকলের জন্য কল্যানকর। সর্বজনীন হচ্ছে সকলের জন্য। ভারতবর্ষের কোথায়ও একক দেবতা বা দেবীর পূজা হয়না। প্রায় সব পূজাই কমবেশী আঞ্চলিকতা প্রভাবিত। দূর্গা পূজা শুধুই বাঙালীদের পারিবারিক পূজা, যা শুরু হয়েছিল কলকাতার ধনী বাবুদের গৃহ থেকে।

পুতুল সেনের বাড়ি ছিল আজকের স্নেহাংশু সরকার কুট্টির বাড়ীর পূর্ব পাশে। এখান থেকে পূর্বে দাসবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল বাড়ীর চৌহদ্দি। কালু সেন ও পুতুল সেন এই দুই সেন পরিবারই চলে গেলেন দেশভাগের পরপর প্রায় সমসাময়িক সময়ে।

বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তিতুল্য বিপ্লবী বীর সতীন্দ্র নাথ সেনের পিতা নবীন চন্দ্রসেন ছিলেন উনবিংশ শতাব্দীর অত্র এলাকার বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ও সমাজ সেবক। তিনিও প্রখ্যাত মোক্তার ছিলেন। তিনি জুবিলী স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা (১৮৮৭)। বর্তমান স্কুলে তিনি কিছু জায়গাও দান করেছেন। আদর্শস্কুল থেকে থেকে আজকের বধুয়া কমিউনিটি সেন্টার, পিছনে বালিকা এতিম খানা পর্যন্ত ছিল তাদের সম্পত্তি। তিনি ‘ভারতীয় বেদান্ত আশ্রম’-এর পটুয়াখালী শাখা গড়ে তুলেন তার বাড়ির আঙিনায়। এই আশ্রমের প্রধান পুরোহিত হয়ে আসেন চির কুমার বালানন্দ জ্বী। তিনি পিতা-পুত্র উভয়েরই দীক্ষাগুরু। ৪৭ এর পরে এটি হয় ‘পাকিস্তান বেদান্ত আশ্রম’। এখন এর নাম বাংলাদেশ উদাসী বেদান্ত আশ্রম। পূর্ণচন্দ্র সেন ছিলেন উদাসী বেদান্ত আশ্রমের আজীবন সভাপতি। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে নিতাই হন এর সভাপতি। বিংশ শতাব্দির প্রায় শুরু থেকেই বরিশাল জেলার বৃটিশ কর্তা ব্যক্তিরা সতীন সেনের ভয়ে তটস্থ থাকতো। নবীন সেন মারা যান বৃটিশ পিরিয়ডেই। বারবার পুলিশী হয়রানির কারনে সতীনকে রেখে পরিবারের সবাই জ্ঞাতি ভাই শৈলেন্দ্রনাথ সেনের সাথে দেশভাগের সময়ই ভারত চলে যায়। মৃত্যুর পূর্বে নবীন সেন সম্পূর্ণ নিজস্ব জায়গায় তিনি পটুয়াখালী আদর্শ প্রাইমারী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমানে এটি এখন আদর্শ হাই স্কুল। দেশত্যাগের সময় নবীন সেনের নির্দেশমত বাকী সম্পত্তি তারা বেদান্ত আশ্রমে দান করে যান। পরবর্তীতে এই আশ্রমের সিংহভাগ জায়গাই হিন্দুরা যে যার মত দখল করে নেয় এবং এখনও সবাই বহাল তবিয়তেই আছে।

অগ্নিযুগের মহানায়ক চিরকুমার সতীন সেন। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তিতুল্য বিপ্লবী বীর সতীন সেন তাদের বাড়ীর প্রাঙ্গনে গড়ে তুলেন স্বদেশী আন্দোলনের স্বরাজ প্রাঙ্গন। তখন ‘অনুশীলন’ ও ‘যুগান্তর’ নামে দুটি বিখ্যাত আন্ডার গ্রাউন্ড বিপ্লবী সংগঠন ছিল যাদের ধ্যান জ্ঞান ছিল বৃটিশদের উপরে গুপ্ত হামলা চালানো। বাংলার বিভিন্ন জায়গায় এরা প্রথমে ব্যায়ামাগার তৈরী করে তরুন সমাজকে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার আহবান জানায়। বিভিন্ন প্রকারের শারীরিক কসরত শেখানোর পাশাপাশি শেখানো হয় দেশপ্রেম। তারপর এখান থেকে অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে তরুনরা নিজেকে সমর্পন করে দেশমাতৃকার তরে। সতীন সেন ছিলেন যুগান্তরের দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষ নেতা পরবর্তিতে বরিশাল জেলা কংগ্রেসের সভাপতি। বৃহত্তর বরিশাল জেলায় তার নেতৃত্বেই সত্যাগ্রহ আন্দোলন হয়। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে বিখ্যাত যোগেন্দ্র নাথ মন্ডলকে হারিয়ে বিধান সভার সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি তার ৬১ বছর জীবনের অর্ধ্বেকই কাটিয়েছেন ভারতবর্ষের ১৮টি জেলে। জেলের ভিতর অনশন করেছেন ৩২২ দিন। তার শেষ জীবনটাও গেছে জেলে জেলে। রাজশাহী ও রংপুর জেলে তার উপর নেমে আসে নির্মম অত্যাচার। দীর্ঘদিন বিনা চিকিৎসায় গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে পড়ে রইলেন রংপুর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে। মৃত্যুর আগে তাকে ঢাকা মেডিকেলে আনলে ১৯৫৫ সালের ৮ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পটুয়াখালী আদর্শ স্কুলের প্রাঙ্গনে তাকে সমাহিত করা হয়। সমাধিটার অস্তিত্বটাও এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

রাজনৈতিকভাবে প্রাগ্রসর পটুয়াখালীর রূপকার সতীন সেন। আমাদের শাহজাহান চাচা (ধর্মমন্ত্রী) তার স্কুল স্মৃতিতে বলেছিলেন ‘আমরা যখন জুবিলী স্কুলে ছোট শ্রেনীতে পড়ি তখন দেখেছি সতীন সেনের নেতৃত্বে পটুয়াখালীর স্বদেশী আন্দোলন। আমরা মুসলমানরা ভয়ে কখনও মিছিলে যেতাম না।’ পটুয়াখালীর ছাত্র আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, অবিভক্ত ছাত্র ইউনিয়নের সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পটুয়াখালী জেলার প্রথম বিচারপতি বদরুল হক, আমাদের বাচ্চু মামা বলেছিলেন ‘ছোটবেলায় একবার সতীন সেন এসেছিলেন আমাদের বাসায় পটুয়াখালীর অগ্নি কন্যা হিরন্ময় দেবীকে (মুক্তিযোদ্ধা মানস দা’র মা) সাথে নিয়ে আমার বড় বোন আজিজুর নাহার দীনুর (পটুয়াখালী মহিলা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি) সাথে দেখা করতে। আমার মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন- দেশ মাতৃকার তরে নিবেদিত হও, এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশির্বাদ।’

পটুয়াখালীর মত প্রত্যন্ত অঞ্চলে তার সংগ্রামী জীবনের অধিকাংশই কেটেছে বলে ভারতবাসী তাকে চিনতে পারেনি, কিন্তু বৃটিশ সরকার ঠিকই চিনেছিলেন। অনলাইনে এখন সতীন সেনের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের বেশ কিছু জাজমেন্ট পাওয়া যায় সেগুলো পড়লে সতীন সেনের সংগ্রামী জীবনের শুরুর দিনগুলো সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।

১৯৩০ সালের ১৪ জুলাই ক্যালকাটা হাইকোর্ট সতীন্দ্রনাথ সেন বনাম রাষ্ট্র (Calcutta High Court, Satindra Nath Sen And Ors. vs Emperor on 14 July, 1930| Equivalent citations: AIR 1931 Cal 18) মামলার রায়ে সতীন সেনের সহযোদ্ধা হিসেবে আরো যাদের নাম পাওয়া যায় এবং তারা হলেনDinesh Chandra Sen alias Taroo, Hira Lal Das Gupta, Srimanta Bhattacharjee, Phani Bhusan Banerjee alias Nitai, Butto Krishna Misra, Binode Kanjilal, Rabi Ges Dhintok । ১৯২৬ সালের সত্যাগ্রহ আন্দোলন ছাড়া আর যেসব অভিযোগ আনা হয় তা হল- ২৩ জানুয়ারি ১৯২৯ সালে বরিশাল এগ্রিকালচার এক্সিবেশন বয়কট, সতীন সেনকে গ্রেফতারের কারনে তার ভলেন্টিয়ারদের দ্বারা জ্যোতিষ চন্দ্র রায় নামক সাব ইন্সপেক্টর হত্যা, ট্যাক্স বৃদ্ধির কারনে মিউনিসিপ্যলিটির সাবেক চেয়ারম্যান ও আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত কুমার রুদ্রকে ড্যাগার দ্বারা আহত, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের জন্য স্থানীয় জমিদার রাজেস্বর রায় চৌধুরীকে হুমকী, লাউকাঠি, সূর্যমনি, শ্রীরামপুর, মুরাদিয়া ও দেউলি ইউনিয়ন বোর্ডে একযোগে ট্যাক্স বিরোধী আন্দোলন ও ট্যাক্স কালেক্টরদের পদত্যাগে বাধ্য করা, কয়েকটি ইউনিয়ন বোর্ড আগুনে ভষ্মিভূত করা ও অন্যান্য আরো কিছু অপরাধ। এই রায়ে যারা আসামী একমাত্র বিনোদ কানজিলাল বরিশালের আর সবাই পটুয়াখালীর। অধিকাংশরাই বোধ হয় চলে গেছে। সকলের সম্পর্কে এখন পর্যন্ত তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। আশা করি এবার কোরবানীর বন্ধে একটা ফাইট দেবো।

যার ভয়ে কেপে উঠতো বৃটিশ রাজ, গোটা জীবনটাই যে উৎসর্গ করলো দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য সেই পরিবারকেই দেশ ছাড়তে হলো। তার এক নাতিকে পেয়েছিলাম ফেইস বুকে। সতীন সেনের একটি ছবির জন্য তাকে খুব অনুরোধ জানিয়েছিলাম। একটু চাঁপাও মেরেছিলাম,- সতীন সেনের একটি ভাস্কর্য্য বানাবো বলে, ভদ্র মহিলা রাজী হলেন না। কি আর করা, নিজেই নিজেরে তিরস্কৃত করলাম। নাতনী হয়তোবা ভাবছে সবই তো দাদুর কাছ থেকে কেড়ে নিলে এতবছর পর এখন আবার তার ছবি দিয়াও ধান্দা! (চলবে..)

তৃতীয় পর্ব পড়ুন