দেখা হবে বন্ধু!

0
1174

গতকাল একটি সবিশেষ দিন ছিল আমার জন্য। একই সময় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাক/প্রস্তুতিমূক সভা ছিল কাল। টিএসসিতে স্কুল বন্ধুদের রিইউনিয়ন, ঢাকা কলেজে কলেজ বন্ধুদের রিইউনিয়ন ও নাখাল পাড়ায় কনিষ্ঠ সহোদরের বিবাহ । ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ। সমান কিনা জানি না। হালকা গিরিংগী করে তিনটিতেই সমভাবে আমার উপস্থিতি নিশ্চিত করেছি । উপোরন্তু ধানমন্ডির ৩২ নং-এ আরো একটিতে অন দা ওয়েতে অন দা রান হাজিরা দিয়েছি। নিজের মুন্সিয়ানায় নিজেই মুগ্ধ।

ভাগ্যে বিশ্বাস আমার কোনকালেই দৃঢ় ছিল না। তবু ও কেন জানি একটি বিষয়ে ভাগ্যদেবী আমার প্রতি একটু বেশী সুপ্রসন্ন। সেটি হচ্ছে আমার বন্ধুভাগ্য। অন্যদের চেয়ে বেশী নষ্টালজিক কিনা জানি না ; তবে এই অহংবোধটু আমার গর্বের। মোর দ্যান প্যাসন। মানুষের কত রকমের বন্ধু হয় এক জীবনে! ল্যাংটা কালের বন্ধু থেকে শুরু হয় এই যাত্রা। স্কুলে এসে এটি হয় দোস্তযাত্রা। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে এটি রঙিণতর হতে থাকে! পেশাগত জীবনে এসে যাত্রাটির আর তার স্বতঃস্ফূর্ত গতিটা থাকে না। থাকলেও দোস্তযাত্রা আর বলা যায়না বোধ হয়। স্কুল বন্ধুরা সবাই আক্ষরিকভাবে ল্যাংটা কালের দোস্ত না তবে দুষ্টরা একে ওল/হোল টাচ ফ্রেন্ড বলে।

নবুওয়াত প্রাপ্তির বয়োঃসন্ধিক্ষণে এসে নির্মম সময় আমাদের ব্যস্ত করে রাখে স্টাবলিশমেন্টের ইদুর দৌড়ে (অন দা ম্যারাথন)। একটু ভালো থাকার জন্য, একটু ভালোবাসার জন্য এই ম্যারাথন রেইসে এসে অনেক বেশী ক্লান্ত মনে হয় নিজেকে এখন। পুরোনো দোস্তদের পেলে যে নির্মল আনন্দ পাই এর চেয়ে উৎকৃষ্ট কোন বিশ্রাম আছে কিনা আমার জানা নেই। বহমান যান্ত্রিক বাস্তবতায় ব্যস্ত সবাই। যান্ত্রিকতার বাইরে পিছনে ফিরে তাকালে মনে হয় দোস্তযুগের সেই হাসি, আনন্দ, দুরন্ত-দস্যিপনার দিনগুলো ছিল খুবই নির্মল, নিষ্পাপ। বন্ধুত্ব মানেই সেয়ারিং এ্যান্ড কেয়ারিং। বন্ধু মানেই নির্ভরতার নিশ্চয়তা।

বিঃদ্রঃ দোস্তরা মিটিংয়ে শসরীরে হাজির থাকতে না পারলে ও ভারচুর্য়ালি যোগাযোগটা রাখতে হবে কিন্তু।