জুয়েলের জন্য আমরা

0
1143

জানি আবেদনটি পপাতদুষ্ট তদুপরি রাজনৈতিক। কিন্তু যেহেতু আমি রক্তমাংসের মানুষ তাই সবসময়ে নিরপে থাকতে পারি না, অরাজনৈতিক হতে পারি না। আমি নিরপে নই – আমি মুক্তিযুদ্ধের প,ে আমি সুন্দরের প,ে সত্যের প,ে ভালো মানুষের প,ে যোগ্য মানুষের প।ে শুধু তা-ই নয় যেহেতু আমি একজন স্বার্থপর মানুষ তাই জন্ম থেকে অদ্যোবধি যারা আমার পাশে ছিল আমি তাদের প।ে এটি যদি স্বার্থপরতা হয় তবে তাই; কিন্তু আমার কাছে এটি দায়বদ্ধতা।

হ্যাঁ, আমি জুয়েলের কথা বলছি, জিয়াউল হক জুয়েল। ব্যক্তিগতভাবে যারা আমাকে ও জুয়েলকে অনেকদিন যাবত চিনে তারা সবাই জানে জুয়েল আমার নিকটাত্মীয় হলেও এই পরিচয়টি কখনোই মুখ্য নয়। বিশেষতঃ জিপি, জুবিলী স্কুল কিংবা আমাদের প্রিয় পটুয়াখালীর সন্তান হিসেবে আমরা সবাই জুয়েলকে চিনি কমপে ৩০ বছর ধরে। জুয়েলদের ব্যাচ জুবলী স্কুল, ১৯৮৬ একটি ঐতিহাসিক ব্যাচ। জুবিলী স্কুলের প্রতিটি ব্যাচে দু একটি মাষ্টার পিস থাকে। কিন্তু ৮৬’র ব্যাচে মাষ্টার পিসের সংখ্যা ছিল কয়েক ডজন। জুবিলী স্কুলের শতবর্ষের ইতিহাসে এটি একটি অনবদ্য রেকর্ড নিঃসন্দেহে। জাহিদ বিশ্বাস, মোকাম্মেল, খান মামুন, পিকু, পোড়া মিলন, টিটু, ছালাম খোকন, শিবলী, ওলামা কাওসার, মেরদা মন্জু, ভোম মিঠুল, নায়ক তুহিন, গায়ক টুটুল, চৌধুরি তপু, ভাউয়া জুয়েল,বাচ্চু দা, কালা শামীম, ভিজা কবীর, বাটু টিপু… । মফস্বল শৈশব মানেই দুরন্ত শৈশব। তাই বলে ওদের শৈশবকে যদি কেউ দরন্ত, দুষ্টু কিংবা ডানপিটে বলে তাহলে ‘জাউরামী’ শব্দটাকে দুঃখ পাবে। এই ব্যাচটা যে শুধু নিজেদের আনন্দের জন্য লাইফ জোকস্ করত তা নয় আমরা জুনিয়ররাও অধীর আগ্রহে অপো করতাম একটি হার্ড জোকসের অপোয়। এই সমগ্র ব্যাচটার প্রতিটি চরিত্রই খুবই উপভোগ্য আর আমাদের কাছে ছিল অনুকরনীয়। এতগুলো মাষ্টার পিসের মধ্যে নাম্বারিং করা দুঃসাধ্য। কাউকে খাটো না করে বলছি স্মার্টনেস, বন্ধুত্ব কিংবা ব্যক্তিত্বের বিচারে আমার কাছে জুয়েল একটু এগিয়ে। জুয়েল জানে হাউ টু এনজয়। সেই হিসেবে জুয়েল আমার শৈশবের নায়ক।

জুয়েলের জন্ম একটি রাজনৈতিক পরিবারে। জুয়েলের বাবা ছাড়া সবাই কম বেশী রাজনৈতিক। জুয়েলের বাবা দণিাঞ্চলের প্রথম ভেটেনারী সার্জন। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৬ সালে তিনি পাশ করেন। চার বোনের এই একটি মাত্র ভাই। সবাই সুশিতি, মাষ্টার্স পাশ। আমার শৈশবে জুয়েলের চোখে প্রথম জল দেখি ১৯৮৪-এ, ওর এক ফুফাতো ভাই মৃত্যুতে। খুব বেশী মনে নেই, তখন আসলে তেমন কিছু বুঝিও নাই। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি সেলিম-দেলোয়ার দিবসে সংগঠন থেকে পুষ্পার্ঘ্য দেওয়ার সময় জানলাম ইব্রাহিম সেলিম হল জুয়েলের সেই ফুফাত ভাই। জুয়েল তখন ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র। স্বৈরাচার বিরোধী মিছিলে সেদিন ট্রাক উঠিয়ে হত্যা করা হয়েছিল সেলিম-দেলোয়ারকে। দ্বিতীয়বার জুয়েলের চোখে জল দেখি বড়বোন স্বপ্না আপার স্বামী নান্নু ভাইয়ের মৃত্যুতে। লঞ্চ ডুবিতে মারা গিয়েছিল নান্নু ভাই। পরবর্তিতে দেখলাম এই নান্নু ভাই কতই না জনপ্রিয় ছিল। নান্নু ভাইয়ের মৃত্যুতে চোখের জল ফেলাইনি এমন কোন মানুষ নাকি বাউফল শহরে ছিল না। শেষবারের মত জল দেখলাম ওর বাবার মৃত্যূতে। এমন হতভাগা ছেলে জুয়েল শুধু এই রাজনীতির কারনেই সে শেষবারের মত বাবার মুখখানাও দেখতে পারেনি।

আসলে জুয়েলের কথা বলতে গেলে দু চার রাতের আড্ডা কিংবা দু একটি বই লিখে শেষ কর সম্ভব নয়। মুল কথায় ফিরে আসি। আগামী ২২ মে বাউফল পৌরসভা নির্বাচন। জুয়েল মেয়র পদপ্রার্থী। অনেক বাদ বিচার করে দেখলাম জুয়েলের যারা প্রতিদ্বন্দী তাদের সকলেরই একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিবৃরে প্রতি আনুগত্য ছাড়া আর কোন যোগ্যতা আছে বলে মনে হয়নি। আমরা যারা জুয়েলকে ভালোবাসি কিংবা জুয়েলের শুভাকাংখী সবার প্রতি অনুরোধ আসুন আমরা সবাই জুয়েলের পাশে দাঁড়াই। জয় আমাদেও হবেই। জয়তু জুয়েল