একটি জিজ্ঞাসা, প্রসঙ্গঃ ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়

0
1605

আমার একটি জিজ্ঞাসা আছে যদিও সাহসের অভাবে বলতে একটু ভয়ও লাগছে। ২১ আগষ্ট ঘটনার রায়ের পর থেকে হরেক রকমের ভাবনা, দুঃশ্চিন্তা ও জিজ্ঞাসায় মাথা ভারী হয়ে আছে। যেহেতু আমি একজন রাজনৈতিক কর্মি তাই আমার এই জিজ্ঞাসা সহযোদ্ধা অনেকের কাছে অনাকাঙ্খিত বা আত্মঘাতিমূলক এবং শত্রুশিবির একে দেশদ্রোহী বলে রটাতে পারে। অনেকের কাছে আবার এটি টাইম সেন্সবলও মনে হতে পারে কিন্তু আমার কাছে বর্তমানই সঠিক সময় মনে হয় এমনতর জিজ্ঞাসার জন্যঃ

” ৭৫’র শোকাবহ ঘটনা হাতেগোনা কয়েকজন বিপথগামী অফিসারের, পিলখানার ঘটনা অফিসারও নয়, কিছু উচ্ছৃঙ্খল বিডিআর সদস্যদের এবং তাতেই যদি প্রতিষ্ঠানের রি-ব্রান্ডিং করতে হয়…

তবে আদালতের রায়ে রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেসকল প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধানরা নিশ্চিতভাবে দোষী প্রমানিত এবং বলা যায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই তারা এমনতর ঘৃনিত ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল সে সকল প্রতিষ্ঠানসমূহের শুধু রি-ব্রান্ডিং নয় রিস্ট্রাকচার্ড বা পুনঃর্গঠন কেন জরুরী নয়?”

যেহেতু প্রতিষ্ঠানগুলো খুবই স্পর্শকাতর এবং রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ তাই বেশি ব্যাখ্যার অবকাশ নাই। স্বাধীন বাংলাদেশে ৩টি হত্যাযজ্ঞ সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক, বিভৎস এবং রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কিছু বিপদগামী সদস্য এই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। প্রথমটি ৭৫ এর নির্মম হত্যাযজ্ঞ। আমরা সবাই জানি এবং বলি বিপথগামী কিছু সেনা সদস্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে; আদালতের রায়ও এমনটাই। দ্বিতীয়টি ২০০৯ সালের বিডিআর পিলখানা হত্যাকান্ড। ৭৫ এর কালো অধ্যায় দেশকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছিল। তাই অনাকাঙ্খিত পিলখানা হত্যাকান্ডের পর প্রয়োজন হয়েছিল বিডিআর’র রি-ব্রান্ডিং। প্রতিষ্ঠানটির নাম, মনোগ্রাম, ইউনিফর্মসহ অনেক কিছুই পরিবর্তন করা হল। ঘটনার বিচারও সম্পন্ন হয়েছে এবং ৩য় ঘটনা ২১ আগস্ট হত্যাকান্ড। এটা যদিও ঘটেছে ২০০৪ সালে কিন্তু বিচার পেলাম মাত্র ৪দিন আগে।

স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনঃর্গঠন প্রায় দুঃসাধ্য একটি কাজ, কিন্তু বিচারের রায়টি এমন সময় বেড়িয়েছে যখন সময়টাই সাংবিধানিকভাবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের, তাই একটু আশার আলো থাকলেও থাকতে পারে। মাত্র ২ মাস পরেই নতুন সরকার গঠিত হবে, একটি কার্যকর রাষ্ট্রযন্ত্রের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানসমূহ যেন যথার্থভাবে ক্রিয়াশীল থাকে সেমতে প্রস্তুতি নিতে সচেষ্ট হবে কি ভবিষ্যতের সরকার? ২১ আগস্টের ঘটনায় প্রমানিত হয়েছে পাকি প্রেতাত্মাদের শেকড় আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের কত গভীরে প্রোথিত। রাষ্ট্রযন্ত্রের শীর্ষ যন্ত্রাংশগুলোর আমূল পরিবর্তন ছাড়া বিদ্যমান পদ্ধতিতে এই বিষবৃক্ষ সমূলে উৎপাটন আদতে সম্ভব কি?