আসিফ নজরুল ও আমাদের নিবীর্য সুশীল সমাজ

0
1152

মেহেদী হাসান কচি, আমার প্রিয় বন্ধু, এখন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী । আমারা ঢাকা কলেজ, পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠী ও সহযোদ্ধা। সম্ভবত ওই ঢাকায় আমার প্রথম বন্ধু। কলেজে ভর্তি হয়ে প্রতিদিন একসাথে রিক্সা চেপে অথবা মুড়ির টিনে চড়ে ভাঙ্গা পথে রামপুরা ওয়াপদা রোড থেকে কলেজে আসি। ওরা পিঠাপিঠি তিন ভাই। নাম বড় কচি, মেঝ কচি ও ছোট কচি। প্রথমবার ওদের বাসায় গিয়ে ভালো ছ্যাবড়া খেয়েছিলাম। কচি বলে ডাকতেই তিন সহোদর সমস্বরে কে বলে উঠল। তখন থেকে জানলাম আমার বন্ধুটির পারিবারিক নাম ছোট কচি। যুক্ত শব্দের দ্বিতীয় অংশ দিয়ে ডাক দিয়ে ছেলেবেলায় বন্ধুর পরিবর্তে বন্ধুপিতার তাড়া খেয়েছি।কিন্তু কচির বেলায় সে অভিজ্ঞতা ছিল বড়ই বৈচিত্রময়।

আসিফ নজরুল বিষয়ক একটি শেয়ার লিংকের কমেন্টসে ‘যে বশ্বিাস ঘাতকরে নাম আসফি নজরুল ‘(পড়ুন শাহরযি়ার কবরিরে “জাহানারা ঈমামরে শষে দিনগুল”(১৯৯৫) । লেখাটা পড়ার পড়ে ও লিখলো, ‘আসিফ নজরুল যুদ্বাপরাধীদের সমর্থক তা আরিফ জেবতিকের দেয়া লিংক থেকে স্পষ্ট প্রমানিত। সে এখন সাইদীর সমর্থনে কথা বলছে আগামীতে বলবে গোলাম/ নিজামী, সাকা যুদ্বাপরাধী নয়। এজন্য কেন তার অফিসে আগুন দিতে হবে? কেন তাকে বেআইনিভাবে বহিস্কারের দাবি তুলতে হবে? দোস্ত কথা বলতে দিতে হবে এবং শুনতে হবে। র্র্ধ্যৈ ধর। ৪০ বছর অপেক্ষা করেছিস আর কয়টা দিন অপেক্ষা করতে অসুবিধা কি?’

আমার ছাত্ররাজনীতির পুরো সময়ের সহযোদ্ধা কচির প্রশ্নটির উত্তরে অনেক কথাই বলা যেত। ফেসবুকে আর কতই বা বলা যায়। শুধু বললাম বন্ধু বাংলাদেশের কোন ছাত্রআন্দোলন আইনিভাবে সংগঠিত হয়েছিল? ৪০ বছর ধরে অপেক্ষা করছি যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য সত্য, পাশাপাশি ২৩ বছর অপেক্ষা করেছি একটি মুখোশ খুলে ফেলার জন্য। থলে থেকে বিড়ালটা যেহেতু বেড়িয়ে পরেছে অপেক্ষা করলে সেটি বাঘ হতে কতক্ষণ?

আমার ছেলেবেলার বন্ধু বাপ্পীর চাচা পাগলা শহীদ (খুন) হলেন অভি আহমেদের হাতে। তারপরই ছাত্র রাজনীতিরি এই কুলাঙারের জানে জিগার দোস্ত আসিফ নজরুল অভি আহমেদকে নিয়ে উপন্যাস লিখল ‘ক্যাম্পাসের যুবক’। ক্যাম্পাসের সন্ত্রাসকে সে দিল শিল্পের মর্যাদা। তারপর’৯০ এর আন্দোলন। নিহত হলেন ডা: মিলন। এবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেনা টিকটিকির। বিচিত্রার এই তরুন সাংবাদিক তার সামাজিক নেটওয়ার্কের শক্তিদিয়ে সেবার পার পেয়ে গেলেন। এরপর শুরু হল শহীদ জননী জাহানার ইমামের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক গণ আদালত আন্দোলন। চামবাজ সাংবাদিক বিপ্লবী ভোল নিয়ে ঢুকে পরলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। এবার বিশ্বাসঘাতকতা শহীদ জননীর সাথে। ( সুত্র: শাহরিয়ার কবিরের “জাহানারা ইমামের শেষ দিনগুলি” ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত)।

শাহাদাত চৌধুরী বের করে দিলেন বিচিত্রা থেকে। মুখোশ উম্মোচিত হল কিছুটা। শহীদ জননীর সাথে বিশ্বাস ঘাতকতার কৃতিত্বে পদলেহনের সুযোগ পেলেন দালাল গুরু এরশাদুল বারির। হয়ে গেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। উচ্চ দালালীর শিক্ষা নিতে চলে গেলেন বিদেশে। বিদেশী ডিগ্রী নিয়ে রংপাল্টানো এবার অনেক সহজ হয়ে গেল। টকশোতে মধুর কথার ফুলঝুরিতে জাতিকে ভুলিয়ে দিল। তিন তিনটি ডিভোর্সের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিয়ে করল নাট্যকর্মী রোকেয়া প্রাচীকে। বের গেল তার সামাজিক নেটওয়ার্কের পরিধি। জায়গা পেল সুশীল সমাজে। তারপরের ইতিহাস সবার জানা।

ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে এবারও গর্জে উঠল ছাত্র সমাজ। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখলাম – পেশাজীবি, কর্মজীবি, সুশীল সমাজ, সামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন, কেউই এখনও এগিয়ে আসলোনা। অবশ্য কেউ কেউ বাহাবা দিয়েছে যদিও তা পিছন থেকে। কিন্তু এ আন্দোলনের সবচেয়ে ব্যাতিক্রমী তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি দেখিয়ে দিল নতুন প্রজন্ম। তা হল ওয়েবে ঝড় তোলা। যদিও আসিফ নজরুল তার সামাজিক নেটওয়ার্কের বদৌলতে বিভ্রান্ত করেছে বেশ কয়েকজন দেশ বরণ্য কয়েকজন নাগরিককে। দলীয রাজনীতির কূটকৌশলে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের দ্বিধাগ্রস্হতা দেখে ছাত্রসমাজ কিন্তু বিভ্রান্ত হয়নি। এতকিছুর পরও নীতি নির্ধারকরা যদি নতুন প্রজন্মের আবেগকে মূল্যায়ন না করে এ দায়ভার তবে কার? কলেজ জীবনে কচিকে ডাকতে গিয়ে যে বিভ্রান্তিতে পরেছিলাম জাতীয় জীবনেও যেন তেমনটি না হয় সেটি মুরুব্বিরা নিশ্চয়ই খেয়াল রাখবে!